টিকটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা

টিকটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যাটফর্মে টিকটকের মালিকানা নিয়ে সমঝোতা। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক চালু রাখার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে চীন। সোমবার ইউরোপে বহুল কাঙ্ক্ষিত আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যাটফর্মে টিকটকের মালিকানা বিক্রির বিষয়ে এ সমঝোতা হয়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় অ্যাপটি নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান ঘটল।

সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইউরোপে আমাদের চীনের সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। একটি জনপ্রিয় কোম্পানির মালিকানা নিয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। তরুণরা এতে খুশি হবে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে কথা বলব।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, প্রাথমিকভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে। আগামী শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলে সেটি চূড়ান্ত করবেন। অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সময় দুই শীর্ষ নেতার সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এ চুক্তি করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দিকনির্দেশনা ছাড়া এ সমঝোতা সম্ভব হতো না। আমরা তার পরামর্শ চীনা পক্ষকে জানিয়েছি। তারাই বিষয়টি এগিয়ে এনেছেন।’

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী লি চেংগাং জানান, আলোচনায় দুই দেশ খোলামেলা ও গভীর মতবিনিময় করেছে। সমঝোতায় টিকটককে নিরাপদে চালু রাখা, বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের কর্মকর্তা ওয়াং জিংতাও বলেন, মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত, টিকটকের কিছু অ্যালগরিদম ও মেধাস্বত্ব লাইসেন্স চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হতে পারে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যাটফর্মে টিকটকের নতুন মালিকানা কার দখলে যাচ্ছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ক্রেতার নাম ঘোষণা করেনি ওয়াশিংটন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ল্যারি এলিসন টিকটকের অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছেন।

এ ছাড়া ফ্রাঙ্ক ম্যাককোর্ট ও কেভিন ও’লিয়ারির নেতৃত্বাধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠানও টিকটক কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। টিকটকের মালিকানা কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বিশ্ব ধনকুবের ইলন মাস্কও। অবশ্য তার বিষয়টি আর আলোচনায় আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রায় ১৭ কোটি মানুষ টিকটক ব্যবহার করে। এমনকি গত প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে টিকটক ব্যবহার করেই তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নিয়ে টিকটক নিষিদ্ধে ফেডারেল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিশ্চয়তা দিতে দেশটির প্ল্যাটফর্মে অ্যাপটির মালিকানা বিক্রির দিকে জোর দেন তিনি।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad