সুদানে আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি সুদানের কাদুগলিতে অবস্থিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা রসদ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এই ভয়াবহ ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’
‘জাতিসংঘের শান্তরক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। দক্ষিণ কর্দোফানে শান্তরক্ষীদের ওপর এই হামলা অন্যায়। এর জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে। যদিও এ বিষয়ে আরএসএফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশটিতে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনআইএসএফএ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেওয়ার মাত্র এক মাস পরে এই হামলাটি ঘটল।
সুদানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই হামলা বিদ্রোহী মিলিশিয়া এবং এর পেছনের লোকদের ধ্বংসাত্মক কৌশল পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেছে।’
তেল সমৃদ্ধ আবিয়ে সুদান এবং দক্ষিণ সুদানের মধ্যে একটি বিতর্কিত অঞ্চল। দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সেখানে জাতিসংঘের মিশন মোতায়েন রয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সামরিক বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই রাজধানী খার্তুম এবং দেশের অন্যান্য স্থানে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিলে সুদান বিশৃঙ্খলায় ডুবে যায়। এই সংঘাতে ৪০ হাজারেওর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
সংঘাত সম্প্রতি কর্দোফানে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বিশেষ করে আরএসএফ দারফুর অঞ্চলের সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি এল-ফাশের দখল নেওয়ার পর থেকে।


