সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। শুক্রবার মালদ্বীপের মালেতে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে কোনো দলই পায়নি গোলের দেখা, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। বাংলাদেশের পক্ষে শেষ শট নিতে এসে দুর্দান্ত এক পানেনকা কিকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে জয় এনে দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফের বয়সভিত্তিক শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।
নাটকীয়তায় ভরা টাইব্রেকারে টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথম শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিচু শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন। এরপর টানা তিন শটে লক্ষ্যভেদ করে লিড ধরে রাখেন মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম। এর মধ্যে চার শটের মধ্যে তিনটিতে গোলের দেখা পায় ভারত। যদিও বাংলাদেশের চতুর্থ শটের আগে ইনজুরির কারণ দেখিয়ে সময় ক্ষেপন করেন ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ সিং। সেখানেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে বাংলাদেশের হয়ে শট নিতে আসা স্যামুয়েলের। ডানদিকের টপ বার লক্ষ্য করে মারা শট আটকে যায় ক্রসবারে, এরপর সেটা লাগে সুরাজের পায়ে।
৩-৩ সমতায় দাঁড়িয়ে ভারতের হয়ে শেষ শট নিতে আসেন টপ স্কোরার ওমাং দোদুম। গোলবারের পেছনে উল্লাস করতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের চাপেই কিনা তার শট উড়ে যায় বারের অনেক বাইরে। গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ; এমন সহজ অথচ পরিস্থিতির কারণে কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে শট নিতে আসেন রোনান। বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে পানেনকা কিকে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াই ছিল সমানে সমান। গ্যালারিতে মালদ্বীপের স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছিল প্রতি মুহূর্তে। ১৩ মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম বড় সুযোগটি পায়, যখন রোনান সুলিভানের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে মিঠু চৌধুরীর নেওয়া হেডটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ১৮ মিনিটে আবারও সুযোগ এসেছিল; মোহাম্মদ মানিকের মাপা ক্রসে সুলিভান সঠিক সময়ে দৌড়ে \লেও ভারতের দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহারায় বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ৩২ মিনিটে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলে ফাঁকা পোস্ট পান ভারতীয় ফরোয়ার্ড। চিপ শটে গোল প্রায় নিশ্চিত মনে হলেও গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বলটি প্রতিহত করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। ৩৬ মিনিটে ভারতীয় ফুটবলার জোড্রিকের একটি জোরালো হেড তালুবন্দি করে আবারও দলকে বিপদমুক্ত করেন মাহিন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে চন্দন রায়ের দূরপাল্লার পাসে সুলিভানের ভলি গ্যালারিতে আছড়ে পড়লে আফসোসে পোড়ে বাংলাদেশ শিবির।\
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণের ধার বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো। খেলার মাঠের উত্তেজনা গড়ায় ফুটবলারদের আচরণেও, ৫৭ মিনিটে সাইডলাইনের কাছে বলের দখল নিতে গিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি ও জার্সি টানাটানির ঘটনা ঘটে। রেফারিকে বেশ বেগ পেতে হয় পরিস্থিতি শান্ত করতে।
ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে ৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের পরিবর্তে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান কোচ। নেপাল ম্যাচের মতো আজও তিনি কোনো ক্যামিও দেখাতে পারেন কি না, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ছিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সেই সুযোগটি এসেও ছিল। ডেকলান সুলিভানের দুর্দান্ত পাসে ভারতীয় গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন রোনান। কিন্তু বলটি গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে কাটিয়ে নিতে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায়, মাঠের লড়াইয়ে ফয়সালা না হওয়ায় এখন ভাগ্য নির্ধারিত হবে পেনাল্টি শুটআউটের স্নায়ুযুদ্ধে।


