টাইফুন কালমায়েগির আঘাতে ফিলিপাইনে মৃত বেড়ে ১১৪

টাইফুন কালমায়েগির আঘাতে ফিলিপাইনে মৃত বেড়ে ১১৪
কালমায়েগির তাণ্ডবের পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ফিলিপাইনের সেনারা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বছরের অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে দেশজুড়ে দুর্যোগ অবস্থা ঘোষণা করেছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র। বুধবার পর্যন্ত কালমায়েগির আঘাতে ১১৪ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে তার দপ্তর।

বিবিসির খবরে বলা হয়, দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ সেবুতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন। গোটা শহর বন্যা ও জলোছ্বাসের পানিতে ডুবে গেছে। এখনও ফিলিপাইনের উপকূলীয় ও মধ্যাঞ্চলের ১২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কালমায়েগিতে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ৮২ জন।

এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরক্ষা দপ্তরের তালিকায় নিবন্ধন না হওয়া আরও ২৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সেবুর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মারকোস জুনিয়র বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, টাইফুন কালমায়েগির ক্ষয়-ক্ষতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ফুটে উঠবে। পানি নামতে শুরু করলে এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার হলে প্রাণহানি বাড়ার পাশাপাশি পানিবাহিত রোগবালাই প্রকট আকারে বাড়তে পারে বলে শঙ্কা জানান তিনি।

এদিকে ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে আসছে আরেকটি নতুন ঝড় ‘উওয়ান’। এ ঝড় পূর্ণশক্তি নিয়ে ফিলিপাইনে আঘাত হানলে ১০ থেকে ১২টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান মারকোস। বলেন, ‘এত বিশাল এলাকাজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব জাতীয় দুর্যোগের পর্যায়ে পড়ে।’

 

আরও পড়ুন

টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ফিলিপাইনের উপকূল। ছবি: এপি/ইউএনবি

টাইফুন কালমায়েগির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রকৃতির কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা। ঘরে ফিরে হতবাক মান্দাউয়ে সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোমরসমান পানি উঠেছিল। আমরা প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হালকা কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসি’

‘এখন বৃষ্টি থেমে গেছে, রোদ উঠেছে, কিন্তু আমাদের ঘরে এখনও কাদা ভরা, সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। আমরা জানি না কোথা থেকে পরিষ্কার করা শুরু করব। ঘরে ঢুকলেই কাঁদতে ইচ্ছে করে’, যোগ করেন তিনি।

জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘এটি আমার দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর বন্যা। সেবুর প্রায় সব নদী উপচে পড়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলোর উপর চাপ এত বেশি ছিল যে সবাইকে সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছিল না।’

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, ২৫ লাখ জনসংখ্যার সেবু দ্বীপে ৪ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

টাইফুন কালমায়েগি (স্থানীয় নাম তিনো) এ বছর ফিলিপাইনে আঘাত হানা ২০তম ঘূর্ণিঝড়। এক মাস আগেই, পরপর দুটি টাইফুন—সুপার টাইফুন রাগাসা (নান্দো) এবং টাইফুন বুয়ালয় (ওপং)— এর আঘাতে ১২ জনের বেশি প্রাণ হারান।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটে টাইফুন কালমায়েগি ফিলিপাইনের উপকূল ছেড়ে মধ্য ভিয়েতনামের দিকে এগিয়ে গেছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে শুক্রবার সকাল নাগাদ মধ্য ভিয়েতনামে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিমি থেকে বেড়ে ১৫৫ কিমিতে দাঁড়িয়েছে।

এরইমধ্যে তার প্রভাবে ভিয়েতনামে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার খবর মিলেছে। বাতিল বা পুনঃনির্ধারিত হয়েছে দেশটির ৫০টিরও বেশি ফ্লাইট। সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে থাইল্যান্ডেও। স্থানীয় কর্মকর্তারা কালমায়েগির কারণে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং নদীর পানি উপচে পড়ে প্রবল বন্যার আশঙ্কা করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad