ঝিনাইদহ ভারি বৃষ্টিপাতে গত তিন সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে দুটি বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৌরসভার ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণও এর জন্য দায়ী।
জলাবন্ধতার পরেও শহীদ মশিউর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু কিছু ক্লাস হচ্ছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এসএম মতলেবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া ব্যাপারীপাড়া, উপশহরপাড়া, সরকারি কেসি কলেজের পেছনে, কালিকাপুর, কাঞ্চনপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত আট হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পোহাচ্ছেন অশেষ দুর্ভোগ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার ৯০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর পৌর এলাকার তিনটি, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া-আব্দালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মশিউর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গান্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোড়াবেতাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীগঞ্জের নাটোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ পৌরসভার উপশহর পাড়ার শহীদ মশিউর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ প্রায় এক মাস ধরে পানিতে ডুবে আছে। সেখানের শিক্ষার্থী ১৭০ জন। প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মত খায়রুন্নাহারের দাবি, এরপরেও বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকলেও ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা ৯২ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সেচ পাম্প দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠের পানি সরানো হয়েছিল। তবুও কিছু অংশে পানি রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ঠান্ডাকাশিতে আক্রান্ত হয়েছে।’
একই এলাকার এসএম মতলেবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় গত ৩১ জুলাই থেকে পানিবন্দি রয়েছে। ভারি বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষেও পানি ডুবেছে। এতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালাম পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, ‘দুইবার পাপ্ম করে পানি সরানো হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই আমাদের স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য স্থায়ী সমাধান দরকার।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান মিলন জানান, সদর উপজেলার বিভিন্ন ক্লাস্টারের পানিবন্দি বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধানে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫ বাস্তবায়ন হলে স্কুলমাঠে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে।’
‘আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করে পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেব,’ যোগ করেন তিনি।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘মূলত অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, নিম্নাঞ্চল ভরাট করে বাড়িঘর তৈরি, প্রবাহমান খাল বেদখলের কারণে জলাবন্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এখন বর্ষার মৌসুমে হঠাৎ করেই এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’


