‘জেন জি’ বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

‘জেন জি’ বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

তুমুল বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, কাঠমান্ডুতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে  ‘জেন-জি’ (জেনারেশন জেড) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পরে পদত্যাগ করলেন কেপি শর্মা অলি।

বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দাবির মধ্যে মূল ছিল কেপি শর্মা অলির পদত্যাগ। এর আগে এ ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।

দুর্নীতি এবং ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। বিক্ষোভ দমনে হওয়া সংঘর্ষে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে আন্দোলন।

এমন পরিস্থিতিতে রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিক্ষোভরতদের দাবি মেনে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় নেপাল সরকার।

আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করছেন নেপালের ছাত্র-জনতা। ছবি: এপি/ইউএনবি

নেপালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

নেপালে  টানা ‘জেন জি’ বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভারতের এনডিটিভি ডটকম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতির বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করছে।

আরও পড়ুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ড ওশের বাহাদুর দেউবা, এবং জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খড়কার বাড়িও আক্রমণের শিকার হয়।

এদিকে, সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সেখানের দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘ঘরে অবস্থান’ করার নির্দেশনা দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অলি সরকারে পদত্যাগের চাপ বাড়ছে, একের পর এক মন্ত্রীও দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জারি করা কারফিউ চলছে।

আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করছেন নেপালের ছাত্র-জনতা। ছবি: এপি/ইউএনবি

‘জেন জি’ বিক্ষোভে নিহত ১৯

এর আগে, নেপালের ‘জেন জি’ বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহতের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক জানান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। সেইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ওলি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা এক্সের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনাও নেপাল সরকারের নেই।

উত্তাল নেপালে ‘জেন জিদের’ সহিংস বিক্ষোভ। ছবি: এপি/ ইউএনবি

‘সরকার নয় বরং সম্প্রতি কিছু প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আদালতের আদেশ ছিল, আমাদের দেশে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যেন নেপালেই নিবন্ধন করা হয়’, বলেন কেপি শর্মা অলি।

দুর্নীতি এবং ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। বিক্ষোভ দমনে হওয়া সংঘর্ষে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে আন্দোলন।

এমন পরিস্থিতিতে রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিক্ষোভরতদের দাবি মেনে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় নেপাল সরকার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad