সৌদি আরবের জেদ্দায় পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাদের মধ্যে রয়েছেন- পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আ. এলখেরজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন ওহানেস ভারতান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি।
ফিলিস্তিন যুদ্ধ ইস্যুতে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) নির্বাহী সভার সাইডলাইনে এসব বৈঠক করেন তিনি। আলাদা আলাদা বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারা আশা করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
এ সময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থনেরও প্রশংসা করেন তারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানান প্রতিনিধিরা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানাতে আগ্রহী। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কুলাকলিকায়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে তুরস্ক ও বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে উভয়পক্ষ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি তুলে দেন খলিলুর রহমান।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখরেইজি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, সৌদি ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও সৌদি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। উভয়পক্ষ এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ সংকটের একমাত্র সমাধান।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও জোরালো সমর্থনের প্রশংসা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ফিলিস্তিন নিজে প্রার্থী না হলেও বাংলাদেশ যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে নির্বাচিত হয়, তবে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবি যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। জবাবে ফিলিস্তিনি মন্ত্রী জানান, আরব ও ইসলামি দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেবে।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগণের পক্ষে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গাম্বিয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ পাশে থাকবে। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হয় দুইপক্ষ।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং এ বিষয়ে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।
বৈঠকগুলোতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ।


