পাল্লেকেলেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ সিরিজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বেশ সাদামাটা এক দিনই গেল বাংলাদেশি বোলারদের। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আগের ম্যাচ পাঁচ উইকেট নেয়া তানভীর ইসলাম খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি পাঁচের বেশি। তানভীর-তাসকিনদের নিষ্প্রভ দিনে সেঞ্চুরি করেছেন কুশাল মেন্ডিস। তার সেঞ্চুরির সাথে অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান করেছে শ্রীলংকা।
শ্রীলংকার মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পাল্লেকেলেতে লংকানদের বিপক্ষে রান তাড়ার ইতিহাসও নতুন করে লিখতে হবে বাংলাদেশকে। এর আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৮০ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দিল্লিতে ২৭৯ রান করেছিল শ্রীলংকা।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লংকান শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ওপেনার নিশান মাদুশকা এই ডানহাতি পেসারের লাফিয়ে ওঠা বলে স্লিপে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। এরপর উইকেটে থিতু হয়ে বসেন কুশাল, দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিসাঙ্কার সাথে ৬৯ বলে ৫৬ রানের জুটিতে দলকে ফেরান লড়াইয়ে। যে জুটিতে তার অবদানই বেশি। প্রায় ১২ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙে তানভীরের বলে নিসাঙ্কা ডিপ স্কয়ার লেগে পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর। প্রথম দুই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে না পারা এই ওপেনার আজ ৪৭ বলে করেন ৩৫ রান। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকেও ইনিংস বড় করতে দেননি অধিনায়ক মিরাজ, তার ভেতরে ঢোকা এক বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
১০০ রানে তিন ব্যাটার হারালেও কুশাল ব্যাট করেছেন নিজের মতোই। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো বিধ্বংসী রূপে ধরা দেননি, তবে খেলেছেন একদম আদর্শ ওয়ানডে মেজাজে। উইকেটের চারপাশে থেকেই রান বের করেছেন। বিশেষত শরীরে বরাবর বাংলাদেশি পেসারদের ধেয়ে আসা বলগুলোতে কব্জির মোচড়ে খেলেছেন দারুণ সব শর্ট আর্ম জ্যাব, বেশ কয়েকটা বাউন্ডারিও পেয়েছেন। শামীম পাটোয়ারীর শর্ট বলে তুলে মারতে গিয়ে তার হাতে ফিরতি ক্যাভ দেয়ার আগে ১৮ চারে ১১৪ বলে ১২৪ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। সব মিলিয়ে ষষ্ঠ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন তিনি।
এর আগে আসালাঙ্কার উইকেট নিয়ে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন। ফুলটসে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৬৮ বলে ৫৮ রান করে এই লংকান অধিনায়ক। অবশ্য শ্রীলংকার রান ৩০০-এর ঘর ছুঁতে পারেনি শেষদিকে বোলারদের পাওয়া সাফল্যে। ৪০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২২২ রান ছিল শ্রীলংকার স্কোরবোর্ডে। শেষ ১০ ওভারে ৬৩ রানে দিয়ে চার উইকেট নেন তাসকিন মিরাজরা।
মিরাজ ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে দুটি, শামীম ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। তানভীর পুরো ১০ ওভার করে ৬১ রান দিয়ে পেয়েছেন কেবল নিসাঙ্কার উইকেট। ৪ ওভার বাকি থাকা পেসার তানজিম ৬ ওভার করে ৪১ রানে নিয়েছেন এক উইকেট।


