চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব ও বৈজ্ঞানিক পাহাড় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০ বছরের একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা’ (আরএসএলইউপি) শীর্ষক এই নীতিপত্র তুলে ধরা হয়। সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অপারেশনসের (ইকো) অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বন উজাড় পাহাড়ধসের প্রধান কারণ।’
এ সমস্যা সমাধানে তিনি বিপদভিত্তিক জোনিং, বাধ্যতামূলক ভূ-প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং ইকোসিস্টেমভিত্তিক ঢাল স্থিতিশীলকরণের প্রস্তাব দেন।’
এ ছাড়া বর্ষায় প্রাণহানি এড়াতে বৃষ্টিপাতের নির্দিষ্ট সীমার ভিত্তিতে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ‘আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম শহর ভূমিধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উপস্থাপিত নীতিপত্রটি পাহাড়ি বসতি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।’
প্যানেল আলোচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল সারোয়ার প্রাকৃতিক বন উজাড়ের ফলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক এ.টি.এম. শাহজাহান দুর্বল প্রকৌশল পদ্ধতি ও অবৈধ ইটভাটাকে ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এ ছাড়া সিডিএ বিশেষজ্ঞ শাহিনুল ইসলাম সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপস্থাপিত ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনায় স্বল্পমেয়াদে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং উচ্চ রেজোলিউশনের ডিজিটাল বিপদ মানচিত্র তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিগুলোর পুনর্বাসন এবং এই মডেলটি দেশের অন্যান্য পাহাড়ি জেলায় সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
ইপসা, আশিকা ও রাইমসের কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা পাহাড় রক্ষায় জননিরাপত্তা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।


