বাংলাদেশের নারী ফুটবল আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সম্প্রতি বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মেয়েরা। তবে দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে তৃণমূল নারী ফুটবলার তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলেন বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। তবু সিলেট অঞ্চল থেকে নতুন ফুটবলার পাওয়া যাচ্ছে না। কিরণের ভাষায়, ‘সিলেট অঞ্চল থেকে ফুটবলার আসছে না। অন্য জায়গাগুলোতে প্রায় ঠিক রয়েছে।’
১৬ই আগস্ট শনিবার থেকে মাগুরা, মাদারীপুর, রাজশাহী, রাঙামাটি, রংপুর ও ময়মনসিংহে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক পর্বের লড়াই। এবার রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল অন্তত ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ৪২ দলকে ছয় গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, সেরা রানার্স-আপ ও চূড়ান্ত পর্বের স্বাগতিক দল মূল পর্বে খেলবে।
প্রতিটি দল অংশগ্রহণের জন্য পাবে ৪৫ হাজার টাকা এবং ভেন্যুগুলোও একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাবে। চূড়ান্ত পর্বে উঠা দলগুলো আরেক দফা অর্থ সহায়তা পাবে বাফুফে থেকে।
এবারের আয়োজন নিয়ে কিরণ জানান, ‘জেএফএ’র নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাস আগে আমাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করার পরই তহবিল ছাড় হয়, তাই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের নির্বাহী কমিটির সভায় বাফুফে ২৯ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। এই টুর্নামেন্টে মূলত এসব জেলা অ্যাসোসিয়েশনই অংশ নেয়। বাফুফে কর্মকর্তাদের দাবি, চিঠি এখনো পাঠানো হয়নি, তাই সক্রিয় ও আগ্রহী জেলাগুলোকেই প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ভুটানের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল, যাদের সামনে মাস দেড়েক পর রয়েছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাই। অনেকের মতে, জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্ট আরও আগে হলে এখান থেকে প্রতিভাবান ফুটবলারদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নেওয়া যেত।


