জুলাই সনদে যথাযথ মর্যাদায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও স্বাধীনতার ইশতেহার উপেক্ষিত করার অভিযোগে শুক্রবারে অনুষ্ঠেয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে চারটি বামপন্থী দল।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান বাম দলীয় জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ।
দলগুলো হল–বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)।
গণফোরাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত টেলিগ্রাম এবং ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি নিশ্চিত করা না হলে তারা স্বাক্ষর করবে না।
বাম দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা জানান, গত বছর ৫ আগস্ট দেশে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার দেশে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার, গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু অংশ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এজন্য সরকার সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করে। প্রথমে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে ৩০-৩৭টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ শেষে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন কার হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা ৩ জুন শুরু হয়ে ৩০ জুলাই সমাপ্ত হয়। কয়েকটি দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় পর্যায়ে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে পাঁচদিন আলোচনা হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হয়।
তারা অভিযোগ করেন, বুধবার বিকালে ঐকমত্য কমিশনের এক আকস্মিক আমন্ত্রণে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপস্থিত হন। সেখানে অনেক নেতাকে বক্তব্য দিতে আহ্বান করা হয়। তবে, তাদের দলসমূহের কাউকে বক্তব্য দিতে আহ্বান জানানো হয়নি। তারা মনে করেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ কাজটি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।


