সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আজাবা (বুনো বা আগাছা হিসেবে পরিচিত) শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা। স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় সবুজ সংহতি ও স্থানীয় জনসংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি জানান, উপকূলীয় অঞ্চল এক সময় অচাষ করা নানা শস্য-ফসলে ভরা ছিল। বর্তমানে আধুনিক কৃষি ও বাজার নির্ভর খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রাপ্তিস্থান বিলুপ্ত, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ায় এ ধরনের প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এগুলোই গ্রামীণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির প্রধান উৎস। এসব উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সিক্সটিন ডেজ অব গ্লোবাল অ্যাকশন অন এগ্রোইকোলজি-২০২৫ ও বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলায় শীলতলা গ্রামের স্থানীয় পাঁচটি জনসংগঠনের ১০ জন সদস্য অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রদর্শনীতে এবং ১০ জন রান্না প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে থানকুনি, হেলেঞ্চা, শাপলা, গাদোমনি, আদাবরুন, পেপুল, ইপিলইপিল, দুর্বা, তুলশি, সেঞ্চি, বামনআটি, বিলকুমারী, কলমি, কচুশাক, নাটা, অশ্বগন্ধ্যা, শিষাকন্দা, ঘুমশাক, ডুমুর, আকম্দ, মাটিফোড়া, তিতবেগুন, নিমুখা, বৌনুটি, ধুতরাসহ ৯০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থান পায়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা এসব অচাষকৃত উদ্ভিদের গুণাগুণ, প্রাপ্তিস্থান, কোন মৌসুমে পাওয়া যায়, কোনটি মানুষ ও প্রাণীর খাবার এবং কিভাবে খাওয়া যায় তা তুলে ধরেন। এছাড়া রান্না প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন শাক, মূল ও কন্দজাত উপাদান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করেন। পাঁচ সদস্যের বিচারক স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার বিচার করেন।
আজাবা শাকের মেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন মালতি রানী, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন শিখা রানী ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন পৃথা রানী। এছাড়া রান্না প্রতিযোগিতায় প্রথম হন ইতি রাণী, দ্বিতীয় রিংকু রাণী ও তৃতীয় হন অঞ্জলী রাণী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সবুজ সংহতির সভাপতি জিল্লুর রহমান। বক্তব্য রাখেন- বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, স্থানীয় ইউপি সদস্য কমলা রানী মৃধা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়, কৃষাণী অল্পনা রানী, কৃষাণী মিতা রানী, কৃষক চিত্তরঞ্জন, বারসিক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মন্ডল, মফিজুর রহমান, মিলন হোসেন, বরষা রানী প্রমুখ।


