জাতীয় ঐকমত্য সনদ স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ তৈরি হয়েছে। সনদটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের জেরেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘অতি জরুরি’ বৈঠক ডেকেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি)।
এর আগে কমিশনের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনায়’ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিশন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, মো. আইয়ুব মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও ছিলেন বৈঠকে।
এনসিসি সূত্র জানিয়েছে, সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে দলটি বলে, ‘সংবিধান
আদেশ’ জারির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা না হলে এনসিপি সনদে সই করবে না।
এনসিপি মনে করে, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সময় তারা যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে এবং এবার আর ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরুর পক্ষে।
কমিশন সূত্র আরও জানায়, এদিন সন্ধ্যার জরুরি বৈঠকে দলগুলো সনদে সই করবে কি না এবং সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনা বাংলাদেশ টেলিভিশন নিউজে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাবনা নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সই হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার রাতে সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি দলগুলোর কাছে পাঠানো হলেও বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ঐকমত্য এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কমিশন এ বিষয়ে আলাদা সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রমতে, সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য থাকলেও গণভোটের দিনক্ষণ ও পথ-পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা প্রকট। কোনো কোনো দল সনদে সই করার আগেই বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে।
৩১ জুলাই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর ঐকমত্য কমিশন বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে। ৯ অক্টোবর সেই আলোচনা শেষ হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নে ঐকমত্য হয়।
তবে গণভোটের ভিত্তি, এটি সংসদ নির্বাচনের দিন একসঙ্গে হবে নাকি আগে হবে, এবং গণভোটে কী কী প্রশ্ন থাকবে—এসব বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতভিন্নতা এখনও কাটেনি।


