কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সহযোগিতা করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। অভিযানের সময় কনেকে বিয়ের সাজে এবং বরপক্ষকে বিয়ের প্রস্তুতিতে নিতে দেখা যায়। তবে কাজী আসার আগেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
স্বজনদের দাবি, কনে স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং বরও একই প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের দুজনের মধ্যে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
বিয়ে না দিলে ‘আত্মহত্যার হুমকি’ দেওয়ায় অভিভাবকরা তাদের বিয়ের আয়োজন করেছিলেন বলে দাবি করেন।
কনের বাবা বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কারণেই পারিবারিক চাপে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে না।’

ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সতর্ক করা হয়েছে।’
বাল্যবিয়ের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


