২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ‘মুসলিম সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্কস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়। ঠিক ১১ মাস পর এর নাম বদলে রাখা হয় ‘ইন্তিফাদা বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ থেকে সাতজন এবং যুক্তরাজ্য থেকে একজন ব্যক্তি এই পেজটি পরিচালনা করেন। পেজটি নিজেকে সমাজসেবামূলক প্ল্যাটফর্ম দাবি করে। আসলে সরাসরি চরমপন্থী চিন্তাধারা প্রচার করে এই পেজ। তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র ধ্বংস করে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা।
সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই পেজের নেতারা ধারাবাহিকভাবে একটি কথা প্রচার করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে কেবল আল্লাহর আইনই শান্তি আনতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে।
পেজটির অনুসারী এক লাখ ৮ হাজার। এখানে অনেকে ৯/১১ হামলার প্রশংসা করে নানা পোস্ট শেয়ার করে। তারা সরাসরি আল-কায়েদার নীতি ও কৌশল সমর্থন করে। একই সঙ্গে তারা আল-কায়েদা নেতাদের গুণগান গায়, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের ওপর সহিংসতাকে বৈধতা দেয়।
অনুরূপ আরও একটি প্ল্যাটফর্ম হলো ‘মুসলিমবঙ্গ’। এটি ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট খোলা হয়। এই পেজটি নিজেকে কট্টরপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বিরোধী হিসেবে পরিচয় দেয়। সম্প্রতি সেখানে আপলোড করা একটি ভিডিওতে শাহাদাত এবং শরিয়াহর আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, তারা নৈতিক যুদ্ধে ইতোমধ্যে জিতে গেছে এবং এখন শারীরিক যুদ্ধে জয়লাভ করা কেবল সময়ের ব্যাপার।
‘ভূমিপুত্র’ নামে আরও একটি ফেসবুক পেজ ২০২৫ সালের এপ্রিলে খোলা হয়। কয়েক মাস আগে সেখানে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এতে ‘৯১১’ মানের একটি গ্রাফিক্যালি ডিজাইন করা মুদ্রা এবং ওসামা বিন লাদেনের ছবি দেখানো হয়েছে। সেখানে লাদেনকে ‘ভূমিপুত্র’ বা মাটির সন্তান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ইন্তিফাদা বাংলাদেশের তৈরি করা একটি আদর্শিক বয়ান। তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো গণতন্ত্র ভেঙে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা, ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণার মাধ্যমে ধর্মতাত্ত্বিক উগ্রবাদকে স্বাভাবিক করে তোলা।
শত শত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের হাজার হাজার কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু পাওয়া যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেকডেভ এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী ‘রূপান্তর’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কানাডাভিত্তিক গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তায় এই বিশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সেকডেভ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের তথ্য পরিবেশ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কায়েদা এবং তাদের সহযোগীরা এখন ১২৪৫টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চ্যানেলের এক বিশাল ডিজিটাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এই চ্যানেলগুলোর প্রায় তিন কোটি সাবস্ক্রিপশন রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো জনমত বদলে দেওয়া, চরমপন্থী চিন্তাধারাকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক করে তোলা। তারা বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের মধ্যে গণতন্ত্র বিরোধী ধারণা ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, টুইটারসহ মোট দুই হাজার ৩৫৮টি সক্রিয় ও সুপ্ত চ্যানেলকে তারা নজরে রাখছে বা ব্যবহার করছে। এমনকি মিডিয়াম, পিন্টারেস্ট, কোয়ারা, আলফাফা, গুডরিডস, সাউন্ডক্লাউড এবং মাহফিলের মতো প্ল্যাটফর্মও তারা ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আল-কায়েদা বাংলাদেশের জন্য তাদের কৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। তারা আগে সন্ত্রাসী হামলার ওপর নির্ভর করত। এখন তারা আরও দীর্ঘস্থায়ী পথ বেছে নিয়েছে। আর তা হলো মানুষের চিন্তা বা আদর্শকে কবজা করা। প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়, তাদের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রকে সরাসরি উৎখাত করা নয় বরং ভেতর থেকে একে অন্তঃসারশূন্য করে দেওয়া।
নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি এখন এমন এক হুমকির মুখে যা অনেক বেশি শান্ত এবং ধীরগতির। তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। দেশের গণতন্ত্র এখন আর বোমা বা গুলির হামলার মুখে নেই। বরং এটি ভেতর থেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। এমন সব চিন্তাধারা ছড়ানো হচ্ছে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই ছিনতাই করতে চায়।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর টেররিজম রিসার্চের প্রধান শাফকাত মুনির এই প্রতিবেদনটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি এখন আর কেবল বাস্তব জগতেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অনলাইন এবং অফলাইনের একটি সংমিশ্রণ। তিনি মনে করিয়ে দেন, বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হওয়ার মানে এই নয় যে সন্ত্রাসবাদের হুমকি নেই। আমাদের আরও শক্তিশালীভাবে সাইবার জগতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেসমিন লর্চ বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে আল-কায়েদার এই নতুন কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারা এখন অনেক বেশি ধীরস্থির কৌশল অবলম্বন করছে। তারা স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এবং বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভেদগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে হলে ভবিষ্যৎ সরকারকে গভীর নিরাপত্তা সংস্কার করতে হবে। একইসাথে মানবাধিকারের প্রতি কঠোর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার বন্ধ করা, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং র্যাব-এর মতো বিতর্কিত ইউনিটগুলো বিলুপ্ত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
প্রতিবেদন তৈরির সাথে যুক্ত সেকডেভের একজন প্রতিনিধি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সহিংস উগ্রবাদের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে ঝুঁকি কেবল সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুর্নীতি, সাইবার জালিয়াতি এবং উগ্রবাদ মিলে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে।
এ বিষয়ে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)-এর প্রধান মো. রেজাউল করিম বলেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তারা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই এই গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজর রাখছেন। তবে তারা কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা নেবেন কি না সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
প্রতিবেদনের প্রধান ফলাফল
জাতীয় স্কেলে ডিজিটাল কার্যক্রম আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত এক হাজার ২৪৫টি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল এখন মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। তাদের পেশাদারিত্ব এবং প্রচার অনেক বেশি। ভিডিও, পডকাস্ট, মিম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিদিন প্রচার করা হচ্ছে। এগুলো অনেক সময় সাধারণ কন্টেন্ট থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফেসবুক এখন তাদের প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আগে যে বিষয়গুলো কেবল গোপন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যেত তা এখন প্রকাশ্যে আসছে।
আল-কায়েদার এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দায়ী। বছরের পর বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে এই আস্থার সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে প্রচার করছে। ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোকেও তারা ইসলামের ওপর হামলা হিসেবে চিত্রিত করছে। এই তথ্যযুদ্ধের লক্ষ্য হলো প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে নতুন সদস্য সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। আল-কায়েদা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় ‘দাওয়াহ সার্কেল’ তৈরি করেছে। এগুলো দেখতে ক্ষতিকারক মনে হয় না। অনেক সময় এগুলো ধর্মীয় পাঠচক্র বা সমাজসেবা হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক তৈরির কারখানা। শিক্ষার্থীদের সরাসরি সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয় না। বরং তাদের শেখানো হয় যে ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামের শত্রু এবং গণতন্ত্র একটি পশ্চিমা চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা। ধীরে ধীরে তাদের কাছে চরমপন্থী চিন্তাধারাগুলোই যৌক্তিক মনে হতে থাকে।
কৌশল হিসেবে মেরুকরণ
চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলো ‘শাহবাগী’র মতো তকমা ব্যবহার করে বিরোধীদের নৈতিকভাবে হেয় করে। সাংবাদিক, নারী অধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইসলামের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গাজা, কাশ্মীর, আসাম এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অবরুদ্ধ মানসিকতা। ভারতবিরোধী মনোভাব এবং পশ্চিমের প্রতি ক্ষোভকে স্থানীয় সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে একটি আবেগপ্রবণ বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বার্তা হলো ইসলাম বিপন্ন, গণতন্ত্র একটি অস্ত্র এবং প্রতিরোধই একমাত্র পথ।
উগ্রবাদকে স্বাভাবিক করা প্রতিবেদনের একটি ভয়াবহ তথ্য হলো উগ্রবাদী প্রতীক ও সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি বাড়ছে। ইদানীং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পডকাস্ট এবং অনলাইন আলোচনায় ৯/১১ হামলাকে মহিমান্বিত করতে দেখা গেছে। নতুন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্যে লাদেনের প্রশংসা করছে। তারা ৯/১১ হামলাকে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। এই ধারণাগুলো বন্ধুদের মাধ্যমে এবং বারবার প্রচারের ফলে সবার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের বাইরেও ঝুঁকি
বাংলাদেশে আল-কায়েদার বর্তমান লক্ষ্য আদর্শিক হলেও এর হুমকি কেবল তাত্ত্বিক নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি যুবকদের আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। আল-কায়েদা তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যদি আদর্শিকভাবে গণতন্ত্র কবজা করা সম্ভব না হয় তবে তারা সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ার বিকল্পও খোলা রেখেছে। এই দ্বিমুখী কৌশল চরমপন্থীদের নতুন বিবর্তনকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী এখন প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের বহুত্ববাদী পরিচয় মুছে ফেলার কথা বলে। তারা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জ করছে। তারা এখন আর প্রান্তিক পর্যায়ে নেই বরং অনলাইন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো কোনো বিপ্লব বা যুদ্ধের ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রকে একটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা।
গণতান্ত্রিক ফাঁদ
বাংলাদেশ এখন এক ভিন্ন রকম বিপদের মুখে। গণতান্ত্রিক উদারতাকে ব্যবহার করেই গণতন্ত্র বিরোধীরা শক্তিশালী হচ্ছে। বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে তারা গণতন্ত্রকেই অস্বীকার করছে। প্রচলিত সন্ত্রাসবিরোধী উপায়ে এই আদর্শিক যুদ্ধ মোকাবিলা করা কঠিন। কঠোর দমন-পীড়ন চালালে তারা নিজেদের নির্যাতিত হিসেবে প্রচার করার সুযোগ পায়। আবার কোনো ব্যবস্থা না নিলে উগ্রবাদী ধারণাগুলো মূলধারায় চলে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কেবল নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হামলার মুখে ভেঙে পড়ছে না, বরং একে অত্যন্ত ধৈর্য ধরে ভেতর থেকে দখল করা হচ্ছে। রণক্ষেত্র এখন কোনো ভবন বা সীমান্ত নয় বরং মানুষের মন। বাংলাদেশে তারা সফল হলে এই মডেল সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়।


