চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক একটি তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের চিত্রগ্রাহক মো. মশিউর রহমানসহ জড়িতদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে কালচার অ্যান্ড ফিল্ম কালেক্টিভ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত `চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতারা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক একটি তথ্যচিত্রের বকেয়া বিল সংগ্রহ করতে গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডিএফপি কার্যালয়ে যান তারা। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় অধিদপ্তরের চিত্রগ্রাহক মশিউর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন।
তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন বকেয়া বিল পরিশোধে দেরি হওয়ার ঘটনায় জড়িত আছেন মশিউর রহমান। বিষয়টি নিয়ে মহাপরিচালকের সামনে জবাবদিহির দাবি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিল পরিশোধ না করেই সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তারা জানান, এক পর্যায়ে মশিউর রহমান ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগতকে ডেকে এনে মহাপরিচালকের কক্ষেই নির্মাতাদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে যায় এবং অন্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
নির্মাতাদের দাবি, এই হামলা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং তথ্যচিত্র নির্মাণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ঘটনাটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯-এ প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলেও মনে করেন তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং বকেয়া বিল আটকে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। এই ঘটনাকে তারা ‘পদ্ধতিগত দুর্নীতির প্রতিফলন’ বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, মানবাধিকারকর্মী রেজাউল রহমান লেলিন এবং নির্মাতা মুশফিকুর রহমান জোহান।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনেক সময় স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে উল্লেখ করে রেজাউল রহমান লেলিন জানান, এতে একজন শিল্পী তার সৃজনশীল কাজ শুরুর আগেই দুর্নীতির চক্রে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। এখানে ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাতের সুযোগ রাখা হয়।


