সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে বুধবার আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য মতে, এসব অপরাধ কেবল জিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, বরং তার নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার অধীনের র্যাব সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
প্রসিকিউশন দাবি করে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনে পরিণত হন। এর ফল হিসেবে, ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল পদে চাকরিচ্যুতির আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত কাঠামোয় ফিরে যেতে হয়নি। বরং পুরো সময়জুড়েই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসিকিউশন অভিযোগে আরও উল্লেখ করে, প্রয়োজনীয় সামরিক কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করা এবং কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তার পদোন্নতি হয়। এভাবে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা।


