জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, জামায়াতের আচরণ তত অস্বাভাবিক ও অস্থির হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, জামায়াতের বর্তমান আচরণই প্রমাণ করে তাদের সামনে আর বেশি সময় নেই, আর সে কারণেই আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বুঝে তারা এখন থেকেই অস্থির হয়ে উঠেছে।
বুধবার রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, তাবিদ আউয়ালসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার সেনাবাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাকে নেক্কারজনক উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়ে জামায়াতের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াত এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মেনে নিতে পারেনি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল এবং সেই পাকিস্তানি মানসিকতা থেকে তারা এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি।
সেনাবাহিনী সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য ও সমালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই বক্তব্যে অকারণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান কোনো দলের একক নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের নেতা, যেমন একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এবং তার অনুপস্থিতিতে খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলার সময় সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, বিএনপি জামায়াতের আমিরের ক্ষেত্রেও সম্মান বজায় রেখেই কথা বলে এবং নারীদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করলেও তা সম্মানের সঙ্গেই করা হয়।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমান আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং বাংলাদেশকে বাঁচাতে ও রক্ষা করতে হলে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই।
জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বা ফিলিস্তিনের মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা নারীর সম্মানের কথা বললেও একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি, বরং নারীদের ঘরের ভেতরে রাখতে চায়।
তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক ভোটার নারী, যারা সবসময় বিএনপিকে ভোট দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারীদের চাকরি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিএনপি ছাড়া বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে আইয়ামে জাহেলিয়াত ফিরে আসবে।
জামায়াতকে ‘পরীক্ষিত বেইমান’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির সময় তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে, এমনকি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে।
নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও যেন কারচুপি হতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি কোনো গোপন দল নয়, এটি একটি প্রকাশ্য ও গণতান্ত্রিক দল, এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে দেশ স্থিতিশীল হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


