জাপানের উত্তর উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ওই এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করেছে। আতঙ্কে স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাপানের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫৩ মিনিটে উত্তর জাপানের সানরিকু উপকূলে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যে ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে। এ ছাড়া, অন্য একটি বন্দরেও ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করে লোকজনকে সমুদ্র উপকূল ও নদীর পাড় থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি আপাতত কেটে গেছে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষ গাড়ি নিয়ে উঁচু পাহাড়ে বা পার্কে আশ্রয় নিচ্ছেন। ইওয়াতেসহ উত্তরের চারটি প্রদেশের প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাপানের পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের সবগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত আছে। কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়েনি। এ ছাড়া, অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিস্থিতিও বর্তমানে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই ভূমিকম্প জাপানিদের মনে ১৫ বছর আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে ৯ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ। সে সময় ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তার কারণে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ২৬ হাজার মানুষ আজও ফিরতে পারেননি।


