আগামীতে জনগণই হবে বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে মানুষের মতামত দেওয়ার অধিকার ছিল না। লাখ লাখ গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, গুম খুন করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে এবং নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।‘
সোমবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশে তিন কোটি নতুন ভোটারকে ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ভোটব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচাররা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গুমের রাজনীতি শুরু করেছিল। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে। বহু মানুষের আত্মদানের মাধ্যমে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, এবং মানুষের এখনকার প্রত্যাশা দেশ গড়ে তোলা।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা বক্তব্য উপস্থাপন করছে, তবে এসব বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে যদি দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং স্বৈরাচার ফিরে আসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ বাছাই করে নেবে, কে আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। যাদের নীতি ও আদর্শ জনগণ পছন্দ করবে, তারাই দেশ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি আলোচনার পরিবর্তে, জনগণের কাছে না গিয়ে শুধু বিভাজন করতে থাকে, তবে স্বৈরাচার ফিরে আসার এবং অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। বিএনপি সরকার গঠন করলে কী ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে, সেই ৩১ দফা আড়াই বছর আগে আমরা জনগণের কাছে তুলে ধরেছি। জনগণের ওপরে আস্থা, জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। কোথাও কোথাও হয়তো কেউ পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা সহজ নাও হতে পারে। যত দিন যাচ্ছে, সেই আশঙ্কা বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। দেশ যতক্ষণ গণতন্ত্রের রেললাইনে না ওঠে, ততক্ষণ বিএনপির আন্দোলন থামবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে, ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে, সুন্দর দেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর।’
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদুসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে মির্জা ফয়সল আমিনকে সভাপতি এবং পয়গাম আলীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি।


