‘ছয় মিনিটও সময় নেয়নি বিএনপি, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে’

‘ছয় মিনিটও সময় নেয়নি বিএনপি, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে’
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করতে ছয় মিনিটও সময় নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে এবং রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার দিকে এগোচ্ছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী: বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার যে সংশোধনী আনতে যাচ্ছে, তা অপ্রয়োজনীয়। তার মতে, সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাইলে এ ধরনের আইনের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি এ ধরনের আইন প্রণয়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুও প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে এমন কিছু আইন করে, যার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা এবং নিজেদের মতো করে ক্ষমতা ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। পরে দলটি বিরোধী দলে গেলে ক্ষমতাসীন সরকার সেই আইনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন

মঞ্জু বলেন, বিএনপি র‌্যাব গঠন করেছিল, অথচ পরে সেই বাহিনীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও র‌্যাবের ‘এনকাউন্টারের’ শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রস্তাবিত সাইবার আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এ আইন প্রয়োগ করতে পারবে না। কারণ, তরুণ সমাজ এর প্রয়োগ হতে দেবে না। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সঙ্গে জনগণ বিএনপি সরকারের ১৮ মাসের তুলনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, নিজের সুবিধামতো আইন সংশোধন করে ইতিহাসে কোনো স্বৈরাচারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। বিএনপিকে নিজেদের সুবিধামতো সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, তাদের কার্যক্রম দেখে মনে হয়, তারেক রহমান তাদের নামকাওয়াস্তে নেতা; তাদের আসল নেতা শেখ হাসিনা।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে সাংবাদিকেরা সমালোচনা করায় তাদের সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নাগরিক অধিকার হরণের আশঙ্কা রয়েছে। সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তারা।

সরকার অপতথ্য রোধ করতে চাইলে বিএনপির ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। সরকার ব্যর্থ হলে বিরোধী দল বসে থাকবে না উল্লেখ করে তারা বলেন, বর্তমান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সময়কার জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে না।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা এবং নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad