নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিন নারীকে বেঁধে মারধর ও তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আটক নারীরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার জাহাপুর এলাকার সুমাইয়া আক্তার, খুলনার খালিশপুর থানার দিঘলিয়া এলাকার ইতি আক্তার এবং বালিয়াপাড়া এলাকার শারমিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় সেলিম মিয়ার বাড়িতে তিন নারী প্রবেশ করেন। এ সময় চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করেন। পরে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের চুল কেটে ফেলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৬ সেকেন্ড ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পওয়া ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে।
১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রশি দিয়ে হাত বাঁধা তিনজন নারী। এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে এক নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। তখন এক নারী চুল না কাটার আকুতি জানিয়ে বলছেন, ‘বাবা, চুলডি কাইট্টো না, বাবা।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তরে পুশকুনিতে (পুকুরে) ফালাইয়া দিমু। চুল থাকলে তোর ঠান্ডা লাইগা যাইব। তোরে পুশকুনিত ফালাইয়া মারমু। এমনে মারমু না।’ তখন ওই তিন নারী বারবার চুল না কাটার জন্য আকুতি জানাতে থাকেন।
আরেকটি ভিডিওতে ওই তিন নারীকে একটি ভবনের ভেতর বেঁধে রাখতে দেখা যায়৷ সেখানে স্থানীয় শিশুদের সামনেই কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক ও আরেক নারীকে দেখা যায় ওই তিন নারীকে মারধর করতে।
ঘটনার বিষয়ে সেলিম মিয়া দাবি করেন, তার স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় ওই তিন নারী ধরা পড়েন।
জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘চুরি করলে আইনে শাস্তির বিধান আছে। তবে কেউ নিজ হাতে শাস্তি দিতে পারে না। কাউকে বেঁধে মারধর করা এবং চুল কেটে দেওয়া আইনিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তিন নারীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


