পিরোজপুরের ঝাল ও সুগন্ধিযুক্ত বোম্বাই মরিচের খ্যাতি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার উৎপাদিত এই মরিচ এখন রপ্তানি হচ্ছে চীন-জাপান-থাইল্যান্ডের মতো দেশে। এই বিশেষ জাতের মরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই দুই উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।
পিরোজপুরে উৎপাদিত এই বিশেষ জাতের বোম্বাই মরিচের নাম ‘ঘৃতকুমারী’। এই মরিচ যেমন ঝাল, তেমনি এর সুঘ্রাণও চমৎকার। বিদেশে এই ঘৃতকুমারী মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই মরিচ বিদেশে রপ্তানি করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।
পিরোজপুর জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আঙিনায় নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য বোম্বাই মরিচের গাছ লাগানো একটি প্রচলিত নিয়ম। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা থেকেই মূলত বাণিজ্যিক চাষাবাদের শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই এলাকায় মরিচের চাষাবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহমুদকাঠি, কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোর, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এই মরিচের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো এখান থেকে জাপানে মরিচ পাঠানো শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই বিদেশে মরিচ রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে বছরে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন বোম্বাই মরিচ রপ্তানি হচ্ছে। এ থেকে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।
নেছারাবাদ উপজেলার মাহমুদকাঠি গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম জানান, ঘৃতকুমারী জাতের মরিচের ফলন এই এলাকায় খুব ভালো হয়। বাজারে এই মরিচের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মৌসুমে প্রতিটি মরিচ খুচরা বাজারে ৩ থেকে ১০ টাকা এবং পাইকারিতে ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হয়।
নজরুল ইসলাম আরও জানান, একটি গাছ থেকে বছরে ৩০০ থেকে এক হাজার মরিচ পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগালে টানা দুই থেকে তিন বছর ফল পাওয়া যায়। এই চাষে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তাই এলাকার মানুষের মধ্যে দিন দিন বোম্বাই মরিচ চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানার মরিচ ব্যবসায়ী প্রশান্ত বৈরাগী জানান, তারা চাষিদের কাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করেন। এরপর আকার অনুযায়ী মরিচগুলোকে তিন থেকে চার ভাগে ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। বিশেষ করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে এই মরিচ পাঠানো হয়। সেখান থেকেই মূলত মরিচগুলো চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। লাভজনক হওয়ায় মানুষ এখন এই চাষে বেশি ঝুঁকছেন।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। একটি গাছ থেকে উৎপাদন মৌসুমে টানা ৭ থেকে ৮ মাস ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছে ৪০০ থেকে এক হাজার মরিচ ধরে।
সৌমিত্র সরকার আরও জানান, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের এই মরিচ চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেলে সরাসরি কৃষকদের সাথে বিদেশি ক্রেতাদের সংযোগ তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।


