চার দশকেরও বেশি সময় পর প্রবাহ ফিরে পেল বড়াল নদী। দীর্ঘদিন ধরে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাখা তিনটি জলকপাট অপসারণ করায় নদীটি নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) উদ্যোগে এ কাজ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা থেকে উৎপত্তি হওয়া পদ্মার শাখা নদী বড়াল নাটোর ও পাবনা অতিক্রম করে যমুনা নদীতে মিশেছে। একসময় কৃষি, মৎস্য ও নৌপরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটি জল প্রবাহের অভাবে ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছিল।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদীর প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ দখলদারদের দখলে হারিয়ে যায়। এ অংশে নদীর আর কোনো অস্তিত্ব নেই। সেখানে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা ও নানা স্থাপনা।
১৯৮৪ সালে বন্যার ক্ষতি ঠেকাতে নদীতে বাঁধ দিয়ে বসানো হয় জলকপাট। কিন্তু পরে এটি প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। ধীরে ধীরে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী হারিয়ে ফেলে নাব্য। দখল, দূষণ ও পলি জমে নদী হারায় তার স্বাভাবিক প্রাণ।
স্থানীয় জেলে রাবিউল ইসলাম বলেন, ‘জলকপাট বসানোর পর আমরা জীবিকা হারিয়েছিলাম, মাছ ধরা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার পানি ফিরেছে, বাঁচার আশা জেগেছে।’
নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী জানান, নির্বিচারে ‘ক্রসড্যাম’ নির্মাণ, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা নদীর পরিবেশ ধ্বংস করেছে। এর তলদেশ হয়ে গেছে সংকীর্ণ, পানি হয়েছে দুষিত। গৃহস্থালি ও পোলট্রি খামারের বর্জ্য বছরের পর বছর সরাসরি নদীতে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জলকপাট অপসারণ একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত রাজশাহী অঞ্চলে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ও পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।’


