চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনির উদ্দিন জানান, চাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদ এবং আবাসিক হলগুলোর ১৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। এদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া চলবে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।
প্রথমদিনে চাকসু ক্রীড়া সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র নেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শাহজাহাল হলের ছাত্র তায়েফুল আলম ফরাজি।
চাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৪
চাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকায় নতুন করে ১ হাজার ৭৬৮ শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছে। এ অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৩৪ জন। তবে ছাত্র ও ছাত্রী সংখ্যা নিয়ে কমিশন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেল রয়েছে; এর মধ্যে পাঁচটি হল ছাত্রীদের এবং বাকি ১০টি হল ছাত্রদের জন্য।
এবারের নির্বাচনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরাও প্রার্থী হতে পারবেন। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সব প্রার্থীকে ডোপ টেস্টের (মাদক পরীক্ষা) ফলাফল জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এ পরীক্ষা করাতে হবে। প্রার্থীরা পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বা সংগ্রহ করতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম আশরাফুল হক সিদ্দিকী জানান, কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র নিতে ৩০০ টাকা ফি দিতে হবে। আর হল সংসদের মনোনয়নপত্র নিতে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীদের অনলাইনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রমাণ এবং শিক্ষার্থীর ভোটার আইডি নম্বর দিতে হবে। পরে পরিচয়পত্র দেখিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে তার পরিচয়পত্র, ছবি এবং ডোপ টেস্টের ফলাফল জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মনোনয়নপত্রে প্রদান করা হবে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা জটিলতার কারণে এরপর আর নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবার রাজনৈতিক দলবিহীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন হবে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচার করতে পারবেন।


