চাঁদাবাজির খবর পেলেই পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি: মির্জা আব্বাস

চাঁদাবাজির খবর পেলেই পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি: মির্জা আব্বাস
মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। শনিবার ঢাকার কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি লালন করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দুই মাস নিজ উদ্যোগে এলাকা চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে বিশেষ টিম গঠন করেছিলাম এবং হটলাইন চালু করেছিললাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছিলাম। চাঁদাবাজির খবর পেলেই পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দুই মাস আমার এলাকা শান্ত ছিল। কিন্তু যখনই আমার দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হলো, তখন পুলিশও কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। এরপর আবার চাঁদাবাজি শুরু হলো।’

শনিবার ঢাকার কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের লোকজনই জড়িয়ে পড়েছে।

‘আমি যাদের নিয়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করব, তারাই সংস্কারের কথা বলে, অথচ তারাও এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত’, বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

চাঁদাবাজি ও মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

২৪-এর অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমিসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মী ২৪-এর আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ২৪-এর আন্দোলন এক নয়। ৭১ ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধ, আর ২৪ ছিল স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি সক্রিয় ছিল। ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছি। অনেক সন্তান, ভাই ও পিতাকে হারিয়েছি, অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করে দিতে হবে। আমাদের সন্তানদের ধ্বংস করতে একটি গোষ্ঠী ও একটি দেশ পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়। বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’

নতুন প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণদের খেলাধুলায় মনোযোগী হতে হবে, বেশি করে বই পড়তে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাদকের মতোই একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা সন্তানদের বিপথগামী করছে।’

মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মির্জা আব্বাস এ সভায় উপস্থিত প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad