চট্টগ্রাম শহরে ৫,০০০ সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার চালাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি সংগঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত জানায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। এই যানটি রাস্তায় নামলে শৃঙ্খলা আসবে নাকি যানজট আরও বাড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কল্যাণ সংস্থা সেনা কল্যাণ সংস্থা ‘চট্টো-মেট্রো’ সিরিয়াল সিস্টেমের অধীনে এই যান চালানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম শহরে একটি নিরাপদ, আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করবে।
গত মে মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে সেনা কল্যাণ সংস্থা দাবি করেছে, ৫,০০০ সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন করার মাধ্যমে অবৈধ এবং নিবন্ধনহীন থ্রি-হুইলারগুলোর ব্যাপক চলাচল রোধ করা সম্ভব হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এর ফলে সড়কগুলোর বিশৃঙ্খলা কমবে এবং পরিবহন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যদি ৫,০০০ সিএনজিচালিত অটো-রিকশা চট্টো-মেট্রো সিরিয়াল সিস্টেমের অধীনে সেনা কল্যাণ সংস্থার নামে নিবন্ধিত হয়, তবে অবৈধ এবং নিবন্ধনহীন সিএনজি অটোরিকশার সমস্যা কমে যাবে।’ পাশাপাশি আরও উল্লেখ করা হয়, এই পদক্ষেপ শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে তবে বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে নেই। টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে। এখন আমাদের একমাত্র মনোযোগ নির্বাচনের দিকে। তাই বর্তমানে এ প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিচ্ছি না।’
যদিও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক এই পরিকল্পনাটিকে বর্ণনা করেছেন ‘অপেশাদার’ হিসেবে। তার মতে, আরও ছোট যানবাহন পথে নামালে ট্রাফিক সমস্যা আরও বাড়বে। টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘যদি আরও ছোট যান রাস্তায় নামে তাহলে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। যানজট কমানোর বদলে, বরং তা আরও স্থায়ী করবে।’
এছাড়া, সেনা কল্যাণ সংস্থা তার চিঠিতে দাবি করেছে, এই উদ্যোগে সরকার ও সংস্থা উভয়েই উপকৃত হবে। তারা জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে নিবন্ধিত ১৩,০০০ অটোরিকশার বেশিরভাগই পুরনো এবং চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, ফলস্বরূপ, শহরের প্রধান সড়ক এবং গলিতে অবৈধভাবে চলাচল করছে প্রায় ১৫,০০০ অতিরিক্ত যানবাহন, যার মধ্যে কিছু গ্রামীণ এলাকায় নিবন্ধিত, কিছু অবৈধ এবং কিছু ব্যক্তিগত নিবন্ধন করা যানবাহন রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন কৌশলে আইন প্রয়োগ এড়িয়ে চলাচল করছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই অবৈধ যানবাহনগুলো নিবন্ধন ফি, ভ্যাট বা আয়কর দেয় না, ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়। এছাড়া, এসব যানবাহন প্রায়ই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাতে চট্টগ্রাম মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এসব উদ্বেগ তুলে ধরে, সেনা কল্যাণ সংস্থা ৫,০০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়ার একটি ‘বিশেষ অনুরোধ’ জানিয়েছে। যার ফলে সংগঠনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সমর্থন পাবে ও শহরের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় আরও ভাল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
যোগাযোগ করা হলে সেনা কল্যাণ সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি একটি পুরনো প্রস্তাব। বর্তমান নেতারা এই প্রকল্প স্থগিত করেছে। সেনা কল্যাণ সংস্থা এখন আর এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত হবে না।’


