বৃষ্টিবলয় ‘প্রবাহের’ কারণে রাজধানীতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া রাতভর বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। মাঝরাতে বজ্রপাতের পর বুধবার ভোরে থেমে থেমে বৃষ্টিতে জলযট দেখা দিয়েছে নিউমার্কেট, পল্টন, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, মিরপুরের কাজীপাড়া, কালশী ও মতিঝিলসহ বহু এলাকায়।
এতে দুর্গাপূজার ছুটির দিনেও ভোর থেকে কিছু সড়কে যানজট তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ইঞ্জিনে পানি ঢুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ে। সাত-সকালে নিত্যকাজে বেরিয়ে দুর্ভোগে পড়েন অনেক নগরবাসী। নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, দেশের ওপর ধেয়ে আসছে মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘প্রবাহ’। এটি মঙ্গলবার রাতে প্রবেশ করে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এটি চলতি বছরের ১৩তম এবং প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টিবলয়। যদিও সারা দেশে সমানভাবে সক্রিয় হবে না, তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রবল বৃষ্টি নামবে।
সক্রিয়তার মাত্রা অনুসারে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে প্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। ঢাকায় এর সক্রিয়তা থাকবে বেশ উচ্চমাত্রায়, আর সিলেট ও চট্টগ্রামে মাঝারি। বৃষ্টিবলয়টি ৬ অক্টোবর রংপুর হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে। এর সর্বাধিক প্রভাব পড়বে ২ থেকে ৪ অক্টোবর।
‘প্রবাহের’ কারণে বিভিন্ন সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ–নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হতে পারে।
এ সময় সাগর উত্তাল থাকতে পারে। নিম্নচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় উপকূলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে সমুদ্রে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। প্রথম দিকে তীব্র বজ্রপাত হতে পারে, পরে তা হালকা থেকে মাঝারি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় যেমন কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও থাকছে।
বিডব্লিউওটি জানায়, ‘প্রবাহ’ চলাকালে আকাশ থাকবে মেঘাচ্ছন্ন। টানা বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া ঠাণ্ডা অনুভূত হতে পারে এবং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকায় সেচের চাহিদা পূরণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


