চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিকদল নেতা আবদুল মান্নান (৪০) হত্যার পর ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মামলা হয়নি, কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে আতঙ্কে রয়েছে নিহত মান্নানের পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার রাতের এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কেও কোনো ধারণা দিতে পারেনি পুলিশ। তবে তারা বলছে, মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং রাঙ্গুনিয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিহত মান্নানের বড় ভাই আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। সে কবরে চলে গেছে, কিন্তু খুনিরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা মামলা করছি।’
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের দুটি আলাদা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফটিকছড়িতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৩২) হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর নগরীর এনায়েতবাজারে মোবাইল ব্যবসায়ী আকাশ ঘোষ (২৬) হত্যার ঘটনায় র্যাব-৭ দুজন এবং পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
ফটিকছড়ি থানার ওসি নূর আহমদ জানান, নিহত মাসুদের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওসমান ও আফাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এনায়েতবাজারের আকাশ ঘোষ হত্যা মামলায় র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত সানিকে গ্রেপ্তারের পর তার তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী ইউসুফ ও শাকিল আলম ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, ‘তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের ধরতেও অভিযান চলছে।’
তবে রাঙ্গুনিয়ায় মান্নান হত্যায় এখনো মামলা হয়নি, কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবারের ক্ষোভ বাড়ছে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়া চলমান। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে রাউজানে সাম্প্রতিক খুন, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং এর প্রভাব রাঙ্গুনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সঙ্গে মাদক ও চাঁদাবাজি চক্রের সক্রিয়তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, বড় ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান টহল না বাড়ালে আতঙ্ক কাটানো কঠিন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ঘটনাগুলো গুরুত্ব নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মান্নান হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই–অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন আছে, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।’
গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, রাঙ্গুনিয়ায় একটি। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এসব মামলায় ১৬০ জনকে আসামি করা হলেও পরিবারগুলোর অভিযোগ, মূল আসামি ও অস্ত্রধারীরা ধরা পড়েনি।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, ‘অস্ত্রসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার–এসব কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে।’ রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে জানান তিনি।


