চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি কক্ষ এখন অনেকের কাছে ভরসার ঠিকানা। প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত গণশুনানিতে সেখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কারও চিকিৎসা দরকার, কারও বাসস্থানের সমস্যা, আবার কারও স্বপ্ন আটকে আছে অর্থাভাবে।
বুধবার আয়োজিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই সহায়তা প্রত্যাশীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে কার্যালয়।
উপস্থিত সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
গণশুনানিতে আসেন আশীষ কুমার দাশ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছেন। স্বল্প আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়া এই ব্যক্তির কথা শুনে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।
একই দিনে সহায়তা পান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। দারিদ্র্য ও অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে থাকা এই ব্যক্তি উন্নত চিকিৎসা ও বসতঘর সংস্কারের জন্য আবেদন করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ‘স্যার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে আমার কথা শুনেছেন। আমি মনে করি, উনি সত্যিই একজন মানবিক কর্মকর্তা,’ বলেন জাহাঙ্গীর আলম।
চট্টগ্রামের অলংকার এলাকার বাসিন্দা হাছিনা বেগমও চিকিৎসার জন্য সহায়তা পান। দুই সন্তান নিয়ে আর্থিক সংকটে থাকা এই নারীও খালি হাতে ফেরেননি।
পটিয়ার মেলঘর গ্রামের ওই শিক্ষার্থী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়ে মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তবে প্রায় ২০ হাজার টাকার অভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গণশুনানিকে কার্যকর সমস্যা সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি আবেদন গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনছে। প্রশাসনের এই চর্চা অব্যাহত থাকলে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি আরও জোরদার হবে।


