সাগরিকার আকাশ সকাল থেকেই গুমোট, দমকা হাওয়া বইছিল থেকে থেকে। তবুও খরতাপেরর মাঝে আকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নামেনি। কিন্তু শেষ বিকেলে নিউজিল্যান্ড উড়ে গেল তাওহিদ হৃদয় আর শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ঝড়ে। সোমবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য এই দুই ব্যাটার টপকে গেলেন ১২ বল হাতে রেখে। ৬ উইকেটের এই জয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।
২৭ বলে ৫১* রানের ইনিংস খেলে হৃদয় পেয়েছেন ষষ্ঠ ফিফটির দেখা।, দুই ছক্কা ও এক চারে ১৪ বলে ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন শামীম। এই ম্যাচে জিততে হলে রেকর্ডই গড়তে হতো বাংলাদেশকে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের। এবার তাদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সেই রেকর্ডই নতুন করে লিখলেন হৃদয়-শামীমরা। একইসাথে সেটা ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করে জিতেছিলেন লিটন দাসরা,
হৃদয় যখন উইকেটে আসেন তখন ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। তবে হৃদয় হাত খুলতে বেশি সময় নিলেন না। স্লগ সুইপে শুরু করলেন ছক্কা মেরে। এরপর আরো দুটো ছক্কা ও তিনটি চার, নিজের ষষ্ঠ ফিফটিতে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। ছয়ে নামা শামীম দুই ছক্কা ও তিন চারে অপরাজিত ছিলেন ৩১ রানে। তবে সব ছাপিয়ে ম্যাচের হাইলাইটস হয়ে রইল নাথান স্মিথকে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারা ছক্কাটা। এর আগে পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ডেন ক্লেভার ও কাটেনে ক্লার্কের দুই ঝড়ো ফিফটির সাথে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিওতে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে নিউজিল্যান্ড।
পাওয়ারপ্লেতে শেখ মাহেদী, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডলদের চ্যালেঞ্জ সামলে ফিল্ডিংয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দলের স্কোর নিয়ে যান ৬১-তে। তবে এরপর আরো আগ্রাসী হন দুজনই। দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৫০ বলে ৮৮ রানের জুটি। ক্লার্ক-ক্লেভার দুজনই ছুঁয়েছেন ফিফটি। অবশ্য দুজনই জীবন পেয়েছেন, তবে সুইপ, রিভার্স সুইপ আর ইনসাইড আউট শটে পেয়েছেন দর্শনীয় সব বাউন্ডারি।
রানের চাকায় বাধ সাধেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ইনিংসের দশম ওভারে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ক্লেভার। ২৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। যদিও এর আগে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রান আউট থেকে বেঁচে যান পারভেজ হোসেন ইমনের থ্রো নন স্ট্রাইকার এন্ডের স্টাম্প খুঁজে না পাওয়াতে।
এর আগে ফিফটি করা আরেক ব্যাটার ক্লার্কও জীবন পেয়েছেন রিশাদের বলে। ইনিংসের দশম ওভারের প্রথম বলেই তাকে স্লগ সুইপ করতে যান ক্লার্ক, কিন্তু স্কয়ার লেগে সাইফ হাসান ক্যাচ মিস করায় ফিফটির ছয় রান আগে আরো একটা সুযোগ পান ক্লার্ক। যদিও ফিফটি পেরিয়ে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি তিনি, ৩৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করে রিশাদের এক্সট্রা বাউন্সড ডেলিভারিতে পয়েন্টে হৃদুয়ের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
বেভন জ্যাকবসকে ইনিংস বড় করতে দেননি তানজিম। ডিন ফক্সক্রফটের স্টাম্প উড়িয়েছেন অফস্পিনার মাহেদী। এরপর মিডল ওভারে ঝড় তোলা ভারপ্রাপ্ত কিউই অধিনায়ক নিক কেলিকে ফিরিয়েছেন শরীফুল। ২৭ বলে ৩৯ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটার ফিরেছেন শরীফুলের লেংথ ডেলিভারিতে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে।


