চট্টগ্রামের রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। রেশমির ভাই ফয়সাল আহমদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বোন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক বিষয়টি আমাদের জানান।’
গত ৭ মে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে দুর্বৃত্তদের গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি আক্তার। একই ঘটনায় হাসান রাজু (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাসা থেকে পান কিনতে বের হয়েছিল রেশমি। গলির মুখে পৌঁছাতে কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। একটি গুলি রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে যায়। এতে তার মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় নগরের প্রবর্তক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে ৮ মে সন্ধ্যায় আবার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারপর থেকে সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল সে।
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমদ একজন প্রতিবন্ধী। রৌফাবাদ এলাকায় ভ্যানে শাক বিক্রি করে সাত সদস্যের সংসার চালান তিনি। পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমিই সবার ছোট। সে পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এই ঘটনায় রাজুর পরিবারের করা মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


