মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত শিশু হুজাইফা আফনানের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ২৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় শিশু আফনান (৯)।
এদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে শিশুটির মরদেহ নিজ গ্রাম টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নেওয়া হয়। আফনানের মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রিয় সন্তানের নিথর দেহ দেখে বিলাপে ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আফনানের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনেছি। ভেবেছিলাম সে সুস্থ হয়ে আবার আমার বুকে ফিরবে। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৮ দিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর আমার নিষ্পাপ মেয়েটি মারা গেল। তার কোনো অপরাধ ছিল না, কোনো শত্রুও ছিল না। সে শুধু বাঁচতে চেয়েছিল, একটি স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিল। এই মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’
শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে শিশু আফনানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন, ‘হুজাইফা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো তেচ্ছিব্রিজ এলাকার সন্তান ছিল। সীমান্ত থেকে গুলিবর্ষণে এভাবে সাধারণ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।’
আরেক প্রতিবেশী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আমাদের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে। আমরা নিরাপত্তা চাই, যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে সন্তানের মরদেহ গ্রহণ করতে না হয়।’
গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় টেকনাফের হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় আফনান। সে তখন বাড়ির পাশেই খেলায় মগ্ন ছিল।
পরে তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


