কালজয়ী নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। ১৯৪৮ সালের এদিনে তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভার দৌলতপুরে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার এই সাহিত্য স্রষ্টার নিজ গ্রাম কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইবাড়ী ইউনিয়নের কুতুপুরে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ এবং নেত্রকোনা সদরে হিমু পাঠক আড্ডার উদ্যোগে র্যালী, কেক কাটা, প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাসহ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করা হয়।
কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ একাধারে ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি ও গীতিকার। ছোট গল্প, উপন্যাস, শিশুতোষ উপন্যাস থেকে শুরু করে সাহিত্যের সর্বত্র ছিল তার সরব উপস্থিতি। কখনো আবার রং-তুলির ছোঁয়ায় রাঙিয়েছেন ক্যানভাস।

একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলা সাহিত্যের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক।
২০১২ সালের ১৯ জুলাই এই মহান কথাসাহিত্যিক কারিগর নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পরেও নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি এখনো পাঠক ও দর্শকের মনে রেখাপাত করে চলেছেন।

তিনি নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোছনা ও জননীর গল্প, বাদশা নামদারসহ প্রায় দুই শতাধিক উপন্যাস লিখেছেন। তার রচিত হিমু, শুভ্র, মিসির আলির মতো অনবদ্য চরিত্রগুলো কালজয়ী হয়ে আছে। পরিচালক হিসেবেও তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ছোটপর্দা, বড়পর্দায় তার নানা সৃষ্টি বাঙালির মনে আরও বহু বছর ধরে দাগ কেটে যাবে। নির্মাণে তার মুন্সিয়ানা সে সময়ে ছিল অপ্রতিরোধ্য।
আশির দশক থেকে শুরু করে তার নির্মিত বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই এর মতো নাটকগুলো বর্তমান প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়। শ্রাবণ মেঘের দিন, আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, সর্বশেষ ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তার প্রতিটি নির্মাণের বিশেষত্ব ছিল গানের ব্যবহার। কখনো রবীন্দ্র সংগীত, কখনো নজরুল গীতি, লোকগীতি, আবার কখনো বা নিজের লেখা গান দিয়ে ছুঁয়ে গেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়।


