চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে সংঘটিত চুরির ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই যাওয়া ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ২ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. শাওন (২৩), মো. হৃদয় (২০), মো. রাসেল (২৩) ও ইমাম হোসেন (৪৪)। তবে এই চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আগ্রাবাদ মোড়ের বিএম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় নবাব অ্যান্ড কোম্পানি ও এনসি শিপিং নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে।
অফিস খুলে কর্মীরা ভেতরে ঢুকে দেখেন, কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, আসবাবপত্র এলোমেলো এবং জানালার গ্রিল কাটা। পরে বিভিন্ন কক্ষের ফাইল ক্যাবিনেট ও ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৩টি এফডিআরের মূল সনদ (প্রতিটি ২৫ লাখ টাকা করে) এবং একটি ডিভিআর চুরি হয়।
এ ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলার পর তদন্তে নেমে প্রথমে মো. শাওন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা অভিযানে মো. হৃদয় ও মো. রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনজন মিলে ভবনের পেছন দিয়ে উঠে জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করেন। এরপর ফাইল ক্যাবিনেট ভেঙে নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান। পরে চুরি করা টাকা ও ডলার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় হৃদয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার মার্কিন ডলার এবং রাসেলের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ও ৫০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চক্রের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত মো. ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে আরও ৪২ হাজার টাকা এবং ৫০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


