চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছ।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের বনপুকুর এলাকায় ফোর সিজন নামের একটি হোটেলের পাশে মার্সা নামের একই কোম্পানির দুটি গাড়ির মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই রেহেনা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হন। তার স্বামী বদিউল আলম। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাথরিয়া ইউনিয়নে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা পটিয়া থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত অর্ধশত যাত্রীকে দুই বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। তবে এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের পরিচয়ও জানা যায়নি।
লোহাগাড়া উপজেলা ট্রমা সেন্টারের কর্মচারী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মারসা পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫ জন নিহত হয়েছেন।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা পরিবহনের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একই পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় কক্সবাজারগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে থাকা একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে বাস দুটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি রাস্তার পাশের একটি দোকানে বসে চা পান করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি মারসা পরিবহনের দুটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তেই চারদিকে মানুষের চিৎকার ও কান্না শুরু হয়। অনেক মানুষ আহত অবস্থায় বাসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন।’
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’
এদিকে দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘হতাহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’


