ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় শুক্রবার ম্যাচ বর্জন করেছেন ঐতিহ্যবাহী দল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। তারা মাঠে না নামায় প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ওয়াকওভারের সুবাদে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে এবং টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি অবনমন ঘটেছে ব্রাদার্সের। এই সমস্যার মাঝে শুক্রবার রাতে বিসিবি নির্বাচনের ক্যাটেগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটেগরীর প্রার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। তিনি ক্রিকেটার ও ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি জানান, বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা মেটাতে ‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তি’র এক নতুন রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তামিম। প্রার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ব্রাদার্স ইউনিয়নের যারা অফিসিয়াল আছেন, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি উনাদেরকে বলেছি যে, হয়তো চেষ্টা করব তিন পার্টি কালকে বসে, (ক্রিকেট বোর্ড, ক্লাব এবং ক্রিকেটাররা) বসে যদি একটা সমাধান করা যায়, তাহলে সবচেয়ে ভালো।’ মাঠের খেলা মাঠে রাখতেই দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজনে নিয়মের কিছুটা বাইরে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালোর জন্য, কিছু সিদ্ধান্ত যদি বাইলজের বাইরে গিয়েও নেওয়ার দরকার পড়ে, যদি বোর্ড এটাতে রাজি হয়, আমরা ওটা করার চেষ্টা করব। দিনশেষে, আমরা সবাই চাই ক্রিকেটটা হোক।’
এদিকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব এর মধ্যেই ব্রাদার্সের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্লাবটির জন্য বড় শাস্তি এবং বিতর্কিত কর্মকর্তা আমিন খানকে বিসিবির সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চান না তামিম। এখনই কোনো মন্তব্য না করে আলোচনার টেবিলেই সব মিটমাট করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। সুন্দরভাবে চলতে থাকা লিগের আবহ ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আবাহনী কালকে জিতে যায়, তাহলে এমনও হতে পারে যে, যদি পরের ম্যাচটাও জিতে, আবাহনী-মোহামেডান ফাইনালও দেখতে পারি। কাজেই সুন্দর একটা জিনিস হচ্ছে। আশা করি, এই সমস্যাটা সমাধান করে দেব।’
তবে প্রতি মৌসুমেই ক্লাবগুলোর পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার এই রোগ নতুন কিছু নয়। এই ১০-১৫-২০ বছরের পুরনো সংস্কৃতি চিরতরে বদলে দিতে বিসিবি সভাপতি হতে চাওয়া তামিমের পরিকল্পনা এবার বেশ সুদূরপ্রসারী। বিসিবি ক্লাবগুলোকে যে ২৫-৩০ লাখ টাকার মতো অনুদান দেয়, সেটাকে হাতিয়ার করেই ‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তি’র আইডিয়া সামনে এনেছেন তিনি। তামিমের ভাষ্য, ‘তবে এই সমস্যাগুলো যেহেতু নিয়মিত হচ্ছে, আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটাকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে (ট্রাইপার্টি কন্ট্রাক্ট) আনা যায় কি না, এটা নিয়ে আমাদের একটু চিন্তা করে দেখতে হবে। বিসিবিরও একটা কথা বলার জায়গা থাকা উচিত, যদি এরকম ধরনের কোনো ইস্যু আসে। সামনে যে নির্বাচিত বোর্ড আসবে, আশা করি তারাও এই জিনিসটা দেখবেন।’


