নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে। মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হয়ে নিজ এলাকাতেই সেবা পায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বুধবার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো মানুষ যেন নিজ নিজ এলাকাই উন্নত চিকিৎসা পায়। স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে কাঠামোগত উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবার বেনিফিটটা রুট লেভেল, ভিলেজ লেভেল পর্যন্ত পৌঁছাক।’ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এটিকে পুরোপুরি আস্থাহীনতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।’ তার ভাষায়, অনেক সময় রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী দেশে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায় না বলেই তারা বিদেশে যান। রোগীদের দেশে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করতে হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা সিন্ডিকেট চলবে না। কেউ এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক সংকট ও পোস্টিং এড়ানোর প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষও সমানভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। হাসপাতালগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন, চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জনবল সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিজের অনুভূতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার আনন্দ নয়, বরং কাজের ফলই তার সন্তুষ্টি নির্ধারণ করবে। যেদিন দেশের মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব, সেদিনই বলব আমি শান্তি পেয়েছি।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করবেন এবং মানুষের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।


