মোহাম্মদপুর হাসপাতালে চাঁদাবাজি, এনসিপি নেতাসহ রিমান্ডে ৪

মোহাম্মদপুর হাসপাতালে চাঁদাবাজি, এনসিপি নেতাসহ রিমান্ডে ৪
চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতাসহ চারজন রিমান্ডে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে ‘মব’ তৈরি করে চাঁদাবাজির সময় গ্রেপ্তার এনসিপি নেতাসহ চারজনের দুইদিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অপর আসামি মোহাম্মদ শাহিন হোসেনকে (৩৮) প্রয়োজনবোধে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার এসব আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন বিচারক।

আসামিরা হলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান মানিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি (২৮), হাবিবুর রহমান ফরহাদ ও মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাঁচজনকে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম আসামিদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত চার আসামির দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

এর আগে, সোমবার চাঁদাবাজির ঘটনায় সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শিল্পী আক্তার মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন৷

আরও পড়ুন

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় শাহিন মোহাম্মদপুরের সেইফ হাসপাতালে এসে গর্ভবতী স্ত্রীর বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেলিভারির অনুরোধ করে। কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি অনুরোধ করে বলেন, যেভাবে হোক আমার স্ত্রীর ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। বাচ্চার ডেলিভারি চলমান অবস্থায় নরমালে একটি মৃত ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

এ ঘটনার পর ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণে মামলা না করার জন্য হাসপাতালের মালিকের ছেলের মোহাম্মদ আবু সাইদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন শাহিন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা হাসপাতালের মেশিন ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করেন। একপর্যায়ে আসামিরা সাঈদকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। ভয়ে আসামিদের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন বাদী। আসামিরা চাঁদা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এবং অবশিষ্ট টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য বলেন।

এরপর বিভিন্ন সময় আসামিরা মোবাইলে টাকা চান। অন্যথায় মামলার হুমকি দেন। পরে রোববার সাড়ে ৯টায় আসামিরা ১ লাখ টাকা চাঁদা নেন। পুনরায় বাকি টাকা দ্রুত দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেন তারা।

এদিকে, রাজধানীর ধানমন্ডিতে একজন প্রকাশককে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার বাসায় ‘মব’ তৈরি করায় ২০ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ তিনজন আটক হন। ওইদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর