সারাদেশে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও আওয়ামী লীগের দুর্গ খ্যাত গোপালগঞ্জের চিত্র সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটাদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। কিছু ভোটকেন্দ্রে ভোটারের চাইতে প্রার্থীর নেতাকর্মীদের সংখ্যাই বেশি।
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে এমন আশঙ্কা ভোটের আগে থেকেই ছিল। সকাল ১০টা পর্যন্ত হয়েছেও তেমনটি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্টও নেই। সদর উপজেলায় ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্ট ছাড়া তেমন কোনো ভোটারকে কেন্দ্রে দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার প্রায় ১০ লাখ।
বিগত সময়ে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ যতবারই এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে, ততবারই তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাই ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ আছে।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের এলাকায় অবশ্য অন্য কোনো দল জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারেনি। এই আসনে বর্তমানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিস এর প্রার্থীর কিছু ভোটার রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ নেই বললেই চলে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শঙ্কায় এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সময় গড়ালে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।
বুধবার রাতে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও কঠোর হয়েছে। রাতভোর যৌথ বাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এদিকে গোপালগঞ্জ শহর এর সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।


