স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে নিহতদের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যিনি মারা গেছেন তার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আর প্রয়োজন হলে গোপালগঞ্জে দাফন করা মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হবে।’
শনিবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গোপালগঞ্জের ঘটনায় প্রশাসনের কোনও দায় আছে কিনা সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গোপালগঞ্জের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর জন্য কে দায়ী কমিটি তা খুঁজে বের করবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত বুধবার গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বানচালের চেষ্টায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা দফায় দফায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সংঘাতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান উদয়ন রোডের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী দীপ্ত সাহা (৩০), কোটালিপাড়ার হরিনাহাটি গ্রামের টাইলমিস্ত্রির সহকারী নিহত রমজান কাজীকে (১৯), সানাপাড়ার মোবাইল ব্যবসায়ী সোহেল রানা (৩৫) এবং সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ক্রোকারিজ দোকানের কর্মচারী ইমন তালুকদার (২৪)।
নিহতদের তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন ও সৎকার্য করায় এরই মধ্যে আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
আর শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রমজান মুন্সী (২৮)।


