সন্দ্বীপে এমভি মালঞ্চের চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

সন্দ্বীপে এমভি মালঞ্চের চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একমাত্র যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মালঞ্চ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এদিকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার সুযোগে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকাল ৫টায় এমভি মালঞ্চের মাস্টার আমির হোসেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের ঘোষণা দেন। তবে সন্ধ্যা ৭টায় দেওয়া এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামের গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এর আগে, সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার এ নৌরুটে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু যাত্রীবাহী জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকালে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে এমভি মালঞ্চের যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও কারিগরি সমস্যার কারণে তা বাতিল করা হয়। পরে জাহাজটি ঘাটে রেখে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে এমভি মালঞ্চের মাস্টার আমির হোসেন বলেন, ‘জাহাজের গিয়ারে ত্রুটি ধরা পড়ায় আজকের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে জাহাজটি কবে পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন

বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌরুটে যাত্রীবাহী জাহাজের পাশাপাশি ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পরিবহন করা হয়। এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট ও ট্রলারও চলাচল করে। তবে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এসব ছোট নৌযানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অধিকাংশ যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য জাহাজ ও ফেরির ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কুমিরা ঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতির সুযোগে স্পিডবোটে নির্ধারিত ২৬০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

যাত্রী সাজুল কবির সায়েদ বলেন, ‘সকালে কুমিরা ঘাটে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। কাউন্টারে গেলে টিকিট বিক্রেতা আলমগীর জানান, ৩০০ টাকার কমে কোনো টিকিট দেওয়া হবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে টিকিট বিক্রেতা আলমগীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজ ও ফেরিই তাদের প্রধান ভরসা। তাই দ্রুত এমভি মালঞ্চের মেরামতকাজ সম্পন্ন করে নৌপথে স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad