টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ২৩ ডিসেম্বর আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একই আদালত রামপুরায় ২৮ জনের হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার জন্য ২৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে।
রোববার তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর পক্ষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এ দিন ধার্য করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
টিএফআই সেলে গুমের মামলায় রোববার আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও তোফায়েল, কামরুল ও মশিউর জুয়েলের পক্ষে শুনানির আবেদন করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি আদেশের জন্য আরেকটি তারিখ নির্ধারণের আর্জি জানান। আসামিপক্ষের এ আবেদনে আপত্তি জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিচারকাজে দেরি করতেই আসামিপক্ষের আইনজীবী এমন করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে দুদিন পিছিয়ে ২৩ ডিসেম্বর আদেশের দিন নির্ধাারণ করে আদালত।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা সেনা কর্মকর্তা। এই তালিকায় আছেন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল মো. কামরুল হাসান, কর্নেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেনেন্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
পলাতক সাত আসামি হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর-রশিদ এবং লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।
এদিকে রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। গ্রেপ্তার দুই সেনা কর্মকর্তার পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও পলাতক দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য দিন পুনর্নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলার চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, ঘটনার সময় বিজিবিতে ছিলেন। বাকি দুই আসামি, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য দিন পুনর্নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।


