গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই কমিউনিটি রান্নাঘরের (যেখানে অনেক লোকের জন্য একসঙ্গে রান্না হয়) কর্মী।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, রোববার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ওই কমিউনিটি রান্নাঘর লক্ষ্য করেই হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন এবং বেইত লাহিয়ায় চারজন নিহত হন।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা হিন্দ খুদারি বলেন, ‘এই হামলাই প্রমাণ- ইসরায়েল কেবল মানুষকেই নয়, গাজাজুড়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।’
একই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস একে ‘ইচ্ছাকৃত’ যুদ্ধাপরাধ উল্লেখ করে এক বার্তায় বলেছে, ‘গাজা উপত্যকায় আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় নতুন দৃশ্য যোগ হলো।’
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের হামলা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যায্য নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা দখলদার শক্তিকে গণহত্যা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করছে। এটি আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ, নীতি ও আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করার শামিল।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোববারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ৮৭১ জন নিহত রয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অঞ্চলকে ‘হলুদ রেখা’ বাফার জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ওই বাফার জোন থেকেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামাসের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম বাহা বারুদ। তবে এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


