নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, তাতের দাবি ছিল ‘শাপলা’। কিন্তু কমিশন অনুমোদন দিয়েছে ‘শাপলা কলি’। আর এটি তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছে।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘আমরা শাপলা প্রতীক চেয়েছিলাম, কিন্তু গেজেটভুক্ত হয়েছে শাপলা কলি। কোনো ধরনের আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।’
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার বাংলামোটরে ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত এক সেমিনারে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
সামান্তা শারমিন আরও বলেন, ‘শাপলা কলি যদি দেওয়া যায়, তাহলে শাপলাও দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু কমিশন বোঝাতে চায় আমরা এখনো ছোট দল। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবেই ইসিতে এই মানসিকতা কাজ করছে।’
সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেন, বর্তমান ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রতীক বিতরণ প্রক্রিয়ায় কমিশনের আচরণই তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নতুন গেজেটে আমাদেরকে শাপলা কলি প্রতীক দিয়েছে। কমিশন এটি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে শাপলা প্রশ্নে আমরা আপসহীন।’
‘কমিশনকে শাপলা সম্পৃক্ত করে নতুন গেজেট দিতে হবে। আমরা শান্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। অন্যথ্যায় কমিশন কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে, তা আদায় করে নেব।’
এদিন নির্বাচন কমিশন ‘শাপলা কলি’সহ তিনটি নতুন প্রতীক যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে স্বাক্ষর করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
এর আগে, গত জুনে নিবন্ধনের আবেদনকালে এনসিপি তিনটি প্রতীক প্রস্তাব করেছিল–‘শাপলা’, ‘কলম’ এবং ‘মোবাইল ফোন’। পরে দলটি শুধু ‘শাপলা’ প্রতীকেই জোর দেয়। তবে ইসির তালিকায় ‘শাপলা’ না থাকায় আবেদনটি একাধিকবার নাকচ হয়।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সময় এসসিপি বারবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে শাপলা প্রতীকের দাবিতে অনড় থাকে। এমনকি দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শাপলা না দিলে তারা নিবন্ধন নেবে না।
এমন অবস্থায় ইসি বৃহস্পতিবার ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে, যা এনসিপি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জানা গেছে, একই প্রতীকের জন্য মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যও আবেদন করেছিল, তবে তাদের আবেদনও ইসি খারিজ করে দেয়।
প্রতীক পছন্দের শেষ দিন ছিল ১৯ অক্টোবর। সে সময়ও এনসিপি জানায়, তারা ‘শাপলা’ ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করবে না। অবশেষে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ইসি ‘শাপলা কলি’কে তালিকাভুক্ত প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেয়।
নতুন তিনটি প্রতীক যুক্ত হওয়ায় দেশে নিবন্ধিত নির্বাচনি প্রতীকের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১১৯টি।


