টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে নালিতাবাড়ী উপজেলার গোল্লারপাড় এলাকায় নদীর পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি বেড়েছে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীতে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চেল্লাখালী নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ ছাড়া নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদী, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী, শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদী এবং সদর উপজেলার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চেল্লাখালী নদীর পানির তীব্র চাপে গোল্লারপাড় এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গোল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলেও সন্ধ্যার পর থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। যদি আর বৃষ্টি না হয়, তাহলে দ্রুত পানি নেমে যাবে। তবে আবার বৃষ্টি হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।’
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী না হলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। অন্য নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।


