ঈদুল আজহার ছুটিতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। সাগরের ঢেউ, নোনাজল আর উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠেছে লাখো পর্যটক। গত পাঁচ দিনে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, হাজারো পর্যটক সাগরের ঢেউয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে কেউ নেমেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন সৈকতের সৌন্দর্য।
কোরবানির ঈদ হওয়ায় মুসলিমদের একটি অংশ যখন পশু কোরবানি ও পারিবারিক আয়োজনে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি সৈকতের বালিয়াড়ি, কিটকট ও বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে পুরো সৈকত এলাকা। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক আবিদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ভাইবোনদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
আরেক পর্যটক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ব্যস্ত নগরজীবনে প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ কম। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস আর মনোরম পরিবেশ দারুণ উপভোগ করছি।’
পর্যটক রাজিয়া সুলতানা জানান, সমুদ্রসৈকতে ঘোড়ায় চড়া ও পানিতে খেলাধুলার অভিজ্ঞতা তার কাছে বেশ আনন্দদায়ক লেগেছে। কবির আহমেদ বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সমুদ্রের শীতল পরিবেশ ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে বেশ স্বস্তি পাচ্ছি।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতে পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে লাইফগার্ড কর্মীরা।
সী-সেফ লাইফ গার্ডের সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টু বলেন, ঈদের পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এ চাপ আরও বাড়তে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনটি সৈকত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পেট্রোল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রেসকিউ বোর্ডসহ অতিরিক্ত লাইফগার্ড মোতায়েন রয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।


