উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার ইউজিসির অডিটোরিয়ামে খসড়া নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত নেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য মাছুমা হাবিব বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই আলাদাভাবে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা তৈরি করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ নীতিমালা বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসির কেন্দ্রীয় উদ্যোগে তৈরি নীতিমালা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনার কাজ করবে।’
মাছুমা হাবিব আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়ম এবং গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন।’ তিনি মনে করেন, এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ করবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।’ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
মাছুমা হাবিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করলে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি কমে যাবে।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক দুর্গা রানী সরকার। তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।’
কর্মশালায় এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহর সঞ্চালনায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


