‘গণমাধ্যমে হামলাকারীরা জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করেছে’

‘গণমাধ্যমে হামলাকারীরা জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করেছে’
নূরুল কবীর। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে জড়িতরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেনি। বরং জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করে সেই চেতনাকেই ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর।

শনিবার সকালে ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নূরুল কবীর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধ হতে পারে না এবং সর্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা কখনোই অপরাধমূলক নয়। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে কখনো আইনগতভাবে, কখনো আইনের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল দুটি পত্রিকা অফিসে হামলার মধ্য দিয়ে। একটি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং অন্যটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন পরিচয়ে এবং কোন চেতনার নামে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

নূরুল কবীর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের কঠিন এক ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লড়াই চলার মধ্যেই গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, যারা এসব হামলা চালাচ্ছে তারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের কর্মীদের নাম ব্যবহার করছে এবং জুলাই যুদ্ধের কথা বলছে। এর মাধ্যমে তারা জুলাইয়ের মৌলিক গণতান্ত্রিক চেতনাকেই অপমান করছে।

ডেইলি স্টারের ভবনে হামলার প্রসঙ্গ টেনে নূরুল কবীর বলেন, ভবনের ভেতরে লেখা স্লোগান ও টাঙানো পোস্টার দেখলেই বোঝা যায় সেখানে কী ধরনের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা কাজ করছিল। সেই স্মৃতিগুলো মুছে ফেলতেই যদি কোনো পত্রিকা অফিসে আগুন লাগানো হয়, তাহলে তার অর্থ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেনি, বরং জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করে সেই চেতনাকেই ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।’

বক্তব্যে তিনি বলেন, ভবন ভাঙা, যন্ত্রপাতি নষ্ট করা কিংবা আগুন লাগানো কোনো ক্ষোভের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি নিছক বর্বরতা। সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে সাংবাদিকদের একটি ভবনের ভেতরে আটকে রেখে চারদিক থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মানে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা।

নূরুল কবীর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্ন মত ও ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে। এই বৈচিত্র্যই সমাজকে সমৃদ্ধ করে। এই উপলব্ধি থেকেই সবাইকে সংগঠিত হয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad