মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও ক্ষমতায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শুক্রবার সকালে ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামো গড়ে ওঠে এবং শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরি হয়। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা একটি দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
মাহদী আমিন বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকের দুই হাতকে রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি মনে করতেন। তার সময়েই প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, যা এখনো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
উপদেষ্টা জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্বে থাকাকালে শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে এসব উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এখনো সরকারের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় নারীর পাশাপাশি যুবসমাজ ও শ্রমিকদের ক্ষমতায়নেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ শ্রমজীবী সংগঠনের নেতা ও শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


